Donald Trump যখন মিত্র ও শত্রু—উভয় পক্ষকেই আক্রমণ করছেন, তখন একই সময়ে আমেরিকানদের চীনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তিত হচ্ছে।

একটি নতুন জরিপে দেখা গেছে, Donald Trump প্রশাসন যখন শত্রু দেশের বিরুদ্ধে বাস্তব যুদ্ধ এবং মিত্রদের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী China সম্পর্কে আমেরিকানদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে।

কয়েক বছর আগের পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন কোভিড-১৯ মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রে চীনবিরোধী মনোভাব ও এশীয়দের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ বেড়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য যুদ্ধ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ায়। Pew Research Center-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মাত্র ১৪% আমেরিকান চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতেন।

এখন সেই হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২৭%-এ পৌঁছেছে। এটি বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট ও তরুণদের মধ্যে মনোভাবের বড় পরিবর্তন নির্দেশ করে। পাশাপাশি পশ্চিমা সোশ্যাল মিডিয়ায় চীনা সংস্কৃতি ও বিনোদনের প্রতি আগ্রহও বেড়েছে—যেমন “Chinamaxxing” (চীনা সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ) ট্রেন্ড।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় এখন কম মানুষ চীনকে “শত্রু” হিসেবে দেখছে, যদিও অধিকাংশ আমেরিকান এখনো চীনকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। এই জরিপটি চলতি বছরের জানুয়ারি ও মার্চ মাসে ৮,৫০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা হয়।

ফলাফল আরও দেখায়, চীনের নেতা Xi Jinping-এর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা নরম হয়েছে, আর ট্রাম্পের নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ বেড়েছে।

২০২৩ সালের তুলনায় এখন আন্তর্জাতিক বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শি জিনপিংয়ের ওপর আস্থা রাখা আমেরিকানের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি (১৭%) হয়েছে। অন্যদিকে, চীন সম্পর্কিত বিষয়ে ট্রাম্পের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার ওপর আস্থা কমে ৩৯%-এ নেমেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ পয়েন্ট কম।

এমন সময়ে এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যখন ট্রাম্প ও শি জিনপিং মে মাসে বেইজিংয়ে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চীন নিজেকে একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল বিশ্বশক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যা ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত বৈদেশিক নীতির (যেমন উচ্চ শুল্ক আরোপ ও ইরান যুদ্ধ) সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী Pedro Sánchez-এর সঙ্গে বৈঠকে বলেন, “বর্তমান বিশ্ব ন্যায়বিচার ও শক্তির সংঘর্ষের মধ্যে রয়েছে এবং এটি অস্থির অবস্থায় আছে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি দেশ আন্তর্জাতিক আইন ও বিশ্বব্যবস্থাকে কীভাবে দেখে, তা তার দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধকে প্রতিফলিত করে।”

পিউ রিসার্চের জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের চীননীতি নিয়ে মানুষের মূল্যায়ন প্রায় একই রকম, যেমনটি তারা উত্তর কোরিয়া, কিউবা ও ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে তার নীতির মূল্যায়ন করে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও জনমত চীনের পক্ষে ঝুঁকছে। গত বছরের এক জরিপে দেখা গেছে, কানাডায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বেছে নিতে হয়, তবে সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চীনকেই বেছে নেবে।

“চীনমুখী” প্রজন্ম

জরিপে আরও দেখা গেছে, রাজনৈতিক দল ও বয়সভিত্তিক গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যদিও উভয় দলের মধ্যেই চীনের প্রতি মনোভাব কিছুটা ইতিবাচক হয়েছে, তবে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই পরিবর্তন বেশি স্পষ্ট।

৫০ বছরের বেশি বয়সীরা বেশি করে চীনকে শত্রু মনে করেন, কিন্তু তরুণরা তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। তরুণদের মধ্যে ট্রাম্পের ওপর আস্থাও কম।

এই পরিবর্তন অনলাইনেও দেখা যাচ্ছে। এ বছর “চীনমুখী” ট্রেন্ড জনপ্রিয় হয়, যেখানে অনেক কনটেন্ট নির্মাতা চীনা জীবনধারা অনুসরণ করার চেষ্টা করেন—যেমন গরম পানি পান, ফলের চা তৈরি, ঐতিহ্যবাহী ব্যায়াম করা ইত্যাদি।

চীনা পণ্য ও সংস্কৃতিও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে—যেমন Adidas-এর Tang জ্যাকেট বা Labubu নামের খেলনা।

এছাড়া Xiaohongshu (RedNote) অ্যাপেও বিপুল সংখ্যক আমেরিকান ব্যবহারকারী যোগ দিয়েছেন, বিশেষ করে TikTok নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায়।

এই প্ল্যাটফর্মটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, মজা শেয়ার এবং বন্ধুত্ব গড়ার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, এই পরিবর্তন হয়তো কিছুটা সাময়িক ট্রেন্ড মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে বাস্তব জনমতের বড় পরিবর্তন—যা বিশ্বমঞ্চে শি জিনপিংয়ের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *