
বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA)-র ৩২টি সদস্য দেশ তাদের জরুরি মজুদ থেকে রেকর্ড ** ৪০০ মিলিয়ন (৪০ কোটি) ব্যারেল** তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
🚨 কেন এই সংকট?
- যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ: এই যুদ্ধের ফলে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের ২৫% সমুদ্রবাহিত তেল এই পথ দিয়েই যায়।
- দাম বৃদ্ধি: যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম প্রায় ২৫% বেড়ে গেছে।
- গ্যাস সংকট: তেলের পাশাপাশি এলএনজি (LNG) সরবরাহ ২০% কমে যাওয়ায় গ্যাসের দামও প্রায় ৭০% বৃদ্ধি পেয়েছে।
📊 গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ:
- রেকর্ড পরিমাণ: এবারের তেল ছাড়ের পরিমাণ ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ছাড়া তেলের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
- সীমাবদ্ধতা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল দিয়ে বিশ্ববাজারের মাত্র ৩-৪ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এটি একটি সাময়িক সমাধান মাত্র।
- মজুদ ব্যবস্থা: IEA সদস্য দেশগুলোকে সাধারণত ৯০ দিনের ব্যবহারের সমান তেল জরুরি মজুদ রাখতে হয়। বর্তমানে তাদের কাছে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ব্যারেল তেল সংরক্ষিত আছে।
⚠️ চ্যালেঞ্জ ও সংশয়:
- একবারই ব্যবহারযোগ্য: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, জরুরি মজুদ একবার ব্যবহার করে ফেললে তা শেষ হয়ে যায়। ভবিষ্যতে বড় কোনো সংকট এলে তখন আর ব্যাকআপ থাকবে না।
- রিফাইনারি সংকট: বাজারে তেল ছাড়লেও তা প্রক্রিয়াজাত করার মতো পর্যাপ্ত রিফাইনারি বা শোধনাগারের অভাব রয়েছে।
- বাজারের প্রতিক্রিয়া: এত বড় ঘোষণার পরেও তেলের দাম আশানুরূপ কমেনি, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চিন্তার কারণ।
ব্রিটিশ জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে যুক্তরাজ্য তার মিত্রদের সাথে একযোগে কাজ করছে।

