যুক্তরাজ্যের জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলো সুরক্ষিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করাসহ “যেকোনো বিকল্প” ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে তার দেশ।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী “যেভাবেই হোক” উন্মুক্ত করার হুমকি দেন এবং যুক্তরাজ্য, চীন ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশকে ওই জলপথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। এরপরই মিলিব্যান্ডের এই বক্তব্য সামনে এলো।
বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলিব্যান্ড বলেন, জাহাজ চলাচলের জন্য এই প্রণালী নিরাপদ করা “খুবই গুরুত্বপূর্ণ”। তবে সরকার কী কী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানির দামে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিপিং চ্যানেল, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
- ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে ইরান এই অবরোধ অব্যাহত রাখবে।
- ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই সংকীর্ণ জলপথে চলাচলের সময় বেশ কয়েকটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
- ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে ইরান ওই পথে মাইন স্থাপন করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, মাইন-হান্টিং ড্রোনসহ বিভিন্ন উপায়ে যুক্তরাজ্য অবদান রাখতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংঘাতের অবসান ঘটানোই এই প্রণালী পুনরায় খোলার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ।
অন্যদিকে, ছায়া জ্বালানি মন্ত্রী ক্লেয়ার কুটিনহো মনে করেন, জাতীয় স্বার্থে যুক্তরাজ্যের উচিত মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ বা ড্রোন পাঠানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা। তবে লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি এর বিরোধিতা করে যুদ্ধের “উত্তেজনা প্রশমনে” মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে “বেপরোয়া” বলে সমালোচনা করেন।
সামরিক তৎপরতা: প্রাথমিকভাবে মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ডিয়েগো গার্সিয়া থেকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সাইটগুলোতে “প্রতিরক্ষামূলক” মার্কিন হামলার অনুমতি দিয়েছেন। রবিবার আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে দুটি মার্কিন বি-১ ল্যান্সার বোমারু বিমান উড্ডয়ন করেছে, যা সম্ভবত ইরানে শক্তিশালী “বাঙ্কার বাস্টার” বোমা ও ক্রুজ মিসাইল নিয়ে হামলা চালাতে যাচ্ছে।

