ইরান ইসরায়েলের ডিমোনা শহরে হামলা চালায় যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয় এটি ছিল নাতাঞ্জে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পূর্বের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে।

জেনেভা: ইরান ও ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশপাশে হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন “অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে” পৌঁছেছে বলে রোববার (২২ মে) সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। একই সঙ্গে সংস্থাটি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

শনিবার গভীর রাতে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা শহরের আবাসিক ভবনগুলোতে আঘাত হানে, এতে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডজনখানেক মানুষ আহত হয়।

ডিমোনা শহরে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। তবে ইসরায়েল কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেনি; তাদের দাবি, ওই স্থাপনাটি গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ইরান জানিয়েছে, এই হামলা তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় পূর্বের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে। নাতাঞ্জে ভূগর্ভস্থ সেন্ট্রিফিউজ রয়েছে, যা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত হয় এবং ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

WHO প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ বলেন, “নাতাঞ্জ ও ডিমোনায় হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।”

তিনি আরও বলেন, “পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে।”

তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সামরিক সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমি জরুরিভাবে সব পক্ষকে এমন কোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাচ্ছি, যা পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নেতাদের অবশ্যই উত্তেজনা কমানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

টেড্রোস জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এই হামলাগুলো তদন্ত করছে এবং এখন পর্যন্ত “স্বাভাবিকের বাইরে বা বৃদ্ধি পাওয়া কোনো বিকিরণের মাত্রা” পাওয়া যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করলে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালানোর পর লেবাননও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সম্ভাব্য পারমাণবিক ঘটনার ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় WHO তাদের নিজস্ব কর্মী ও জাতিসংঘের অন্যান্য কর্মীদের ১৩টি দেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে বলে জানান টেড্রোস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *